মৎস্য প্রিয় নারায়ণ দেবনাথ

মৎস্য প্রিয় নারায়ণ দেবনাথ

 

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়: রঙমিলান্তি

 

হাওড়া শিবপুর বাজারে শুধুমাত্র নারায়ণ দেবনাথকে মাছ বেচে বড়োলোক হয়ে গিয়েছে একাধিক মাছ বিক্রেতা। এমনই খবর কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে শিবপুর এলাকায়। সদ্য প্রয়াত স্বনামধন্য কার্টুনিস্ট পদ্মশ্রী নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি একাধিক কমিকস চরিত্রের মধ্যে অন্যতম বাহাদুর বেড়াল। বাহাদুর বেড়ালের অত্যন্ত প্রিয় জিনিস মাছ। তেমনি মাছ ছিল নারায়ণবাবুর পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে। ভালোবাসতেন ইলিশ ও চিংড়ি মাছ। ইলিশ ও চিংড়ির জিভে জল আনা রকমারি পদ হলেই তাঁর দিলখুশ। তাই মন ভালো নেই মাছ বিক্রেতা গুণধর বাগের। নারায়ণবাবুর মতো আর কাউকে যে বাজারের সেরা মাছ বিক্রি করা হবে না। গুণধরের কথায়, বাজারের সেরা ইলিশ আর চিংড়ি মাছ কিনতেন নারায়নবাবু। ইলিশ ও চিংড়ি ওনার খুব প্রিয় ছিল। একই কথা বলছেন শিবপুরে নারায়ণবাবুর প্রতিবেশী যুবরাজ চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, বাজার করতে ভালোবাসতেন নারায়ন দেবনাথ। খেতেও ভালোবাসতেন। আমি যখন ছোটো, বাবার হাত ধরে বাজারে যেতাম তখন থেকেই নারায়নবাবুকে দেখেছি সাধারণ ধুতি পাঞ্জাবি বা লুঙ্গি পরে বাজার করতে। ইলিশ ও চিংড়ি মাছ খেতে ভালোবাসতেন। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় মাছওয়ালারা এক কেজির জায়গায় দেড় কেজি গছিয়ে দিত। উনি ভালোবেসে তা নিয়েও নিতেন। কোনোরকম দরদস্তুর করতেন না। বোধহয় তা পারতেন না। মজা করে বলেন যুবরাজবাবু। তাঁর কথায়, কত মাছওয়ালারা ওনাকে মাছ বিক্রি করেই বড়োলোক হয়ে গেল। শিবপুরে নারায়ণবাবুর পাড়ার বাসিন্দা সম্পর্কে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নাতি শৌভিক মুখার্জি বলেন, আমাদের পরিবারের সঙ্গে নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আমি ওনাকে জেঠু বলে ডাকতাম। বছর চারেক আগেও উনি বাজারে যেতেন। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনা পরিস্থিতির জন্য উনি আর বেরুতেন না। অসম্ভব মিষ্টভাষী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। আটপৌরে ভাবে থাকতেন। শিবপুর অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আবহাওয়া নারায়ণ জেঠুর মতো মানুষের হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল। তিনি আরো বলেন, মাছ খেতে ভীষণ ভালবাসতেন নারায়ণ জেঠু। শিবপুর বাজারের গুণধর বাগ পরের দিকে ওনাকে বাড়িতে গিয়ে মাছ দিয়ে আসত।

কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। নারায়ণ দেবনাথ তার ব্যতিক্রম হননি। নারায়ণবাবু নেই। কিন্তু তাঁর অমর সৃষ্টি বাঁটুলের মতোই রয়ে গিয়েছে ভালো মাছের সন্ধানে ফেরা বাহাদুর বেড়াল। কমিকসের পাতায় পাতায়।

Sub Editor- Ramananda Das

Editor- Dibyendu Das

Editor in chief- Rakesh Sharma

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *