অনামিকা

অনামিকা:

নম্রতা মুখার্জী,Rong News

 

ভারতে এমন একটি রেলওয়ে স্টেশন আছে, যার কোনও নাম নেই। এটা জেনে আপনিও নিশ্চয়ই অবাক হবেন। স্টেশনের যখন নাম নেই তাহলে সেই স্টেশনে যাওয়ার জন্য মানুষ ট্রেন ধরবেন কীভাবে, আর কীভাবেই বা তাঁরা সেই স্টেশনে নামবেন? তবুও যাত্রীরা ঠিক নেমে যান সেই স্টেশনে, কীভাবে যায় তা তো জানবেনই, তার আগে জানুন স্টেশনটি কোথায় অবস্থিত।

 

২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৭,৩৪৯টি রেলওয়ে স্টেশন ছিল। তার মধ্যে একটি রেলস্টেশন নামহীন অর্থাৎ অনামিকা-এটা জেনেই সত্যিই বিস্মিত হতে হয়। মানুষও হতবাক হন তা দেখে। আপনিও নিশ্চয়ই ভাবছেন কেন এমনটা হল। কেনই বা ওই স্টেশনের নাম দেওয়া হল না। আর সেই রেলস্টেশনটি দেশরে কোন রাজ্যে অবস্থিত।

 

নামহীন ওই রেলওয়ে স্টেশনটি অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলায় অবস্থিত এই নামহীন স্টেশনটি। বর্ধমান জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে “রায়না” নামে একটি গ্রামে অবস্থিত। ভারতীয় রেল ২০০৮ সালে এই গ্রামে একটি রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করে। ওই স্টেশনের নামকরণ করা হয়নি আজও। এটি দেশের একমাত্র রেলওয়ে স্টেশন যার নামকরণ করা হয়নি।

 

আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, ভারতীয় রেল এই স্টেশনের নাম রাখল না কেন? কেন এই স্টেশনটির নামকরণ করা হল না? কারণ স্টেশনটি নিয়ে রায়না এবং রায়নগর গ্রামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ কারণে নামকরণ করা যায়নি। আসলে ২০০৮ সালের আগে রায়নগর রেলওয়ে স্টেশন নামে একটি স্টেশন ছিল।

 

বর্তমান স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে একটি ন্যারোগেজ রুট ছিল। একে বলা হত বাঁকুড়া-দামোদর রেলওয়ে রুট। এরপর সেখানে ব্রডগেজ চালু হলে রায়না গ্রামের কাছে একটি নতুন রেলস্টেশন তৈরি করা হয়। তারপর এটি মসাগ্রামের কাছে হাওড়া-বর্ধমান রুটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। স্টেশনের নামকরণ শুরু হলে রায়না গ্রামের লোকেরা এর নাম রায়নগর না করার কথা বলে।

 

গ্রামবাসীরা জোর দিয়েছিল স্টেশনটি “রায়না” নামে করতে। স্টেশনটি যেহেতু রায়না গ্রামে, তাই স্টেশনটির নামও হওয়া উচিত ‘রায়না স্টেশন’। আজ পর্যন্ত স্টেশনটির নামকরণ করা যায়নি। বাঁকুড়া-মসাগ্রাম নামে একটি ট্রেন স্টেশনে দিনে ৬ বার থামে। যে কোন যাত্রী ট্রেন ধরতে এই স্টেশনে আসেন, নামহীন স্টেশন দেখে অবাক হন।

 

বিস্মিত যাত্রীরা প্রথম গেলেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নামহীন বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেখানে কোনো নাম লেখা নেই। এই গ্রামে আসা যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে খালি বোর্ড দেখে বুঝতে পারে যে তাদের স্টেশন এসেছে এবং তারা নেমে যায়।

 

এবার আসি টিকিটের কথায়-টিকিট কাটার সময়ও যাত্রীরা বলেন রায়না গ্রামের নামহীন স্টেশনের টিকিট দিতে। বর্ধমান-মসাগ্রামের মধ্যবর্তী সমস্ত স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে সবাই ওই অ-নামী স্টেশনকে বেশ চেনেন!

কতোদিন এভাবে অনামিকা স্টেশন থাকবে সেটাই এখন প্রশ্ন।

 

Sub Editor- Ramananda Das

Editor- Dibyendu Das

Editor in chief- Rakesh Sharma

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *