নারায়ণ দেবনাথকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হাওড়ার শিবপুর
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়: রঙমিলান্তি
‘এবার বাঁটুলকে দিয়েই করোনাকে তাড়াতে হবে’- কিছুদিন আগে তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর হাওড়া শিবপুরের বাড়িতে দেখতে আসা রাজ্যপালকে এমনই বলেছিলেন নারায়ণ দেবনাথ। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত স্বনামধন্য অলংকরণ শিল্পী পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপ্ত নারায়ণ দেবনাথ। মঙ্গলবার সকালে বেলভিউ হাসপাতালে তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংস্কৃতি জগতে। শোকস্তব্ধ বাংলার সংস্কৃতি মহল। ছোটোদের স্বপ্নরাজ্যের অমরস্রষ্টা, তাদের কল্পনার জগতের যাদুকর, কিছু দুষ্টুমির মতলব, অ্যাডভেঞ্চারের শিহরণ জাগানো, নতুন কিছু ভাবনা ভাবানোর তথা নির্মল হাস্যরসের মিশেলে ঋজু অথচ সরল শৈশব কৈশোরের ভিত গড়ার কারিগর নারায়নবাবুর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিবপুরের তাবৎ বাসিন্দারাও। একটা গোটা প্রজন্মকে বাঁটুলের মতোই প্রায় একার কাঁধে টেনে নিয়ে গিয়েছেন নারায়ণ দেবনাথ। শিবপুরের বাসিন্দা অধ্যাপক গবেষক সুকান্ত মুখার্জি বলেন, অসম্ভব ভালো, ভদ্র, নম্র মানুষ ছিলেন নারায়নবাবু। শিশুর মতো সহজ, সরল মানুষ ছিলেন। কম কথা বলতেন। কিন্তু ছিলেন অত্যন্ত মৃদুভাষী, মিষ্টভাষী। কোনোদিন কারোর সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি বা মতবিরোধ হয়নি। তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগে হাওড়া শরৎ সদনে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন নারায়নবাবু। তাঁকে বাঁটুল, হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে আঁকা একটি উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়। তিনি খুব খুশি হন এবং অতি যত্ন করে নিজের ঘরে সেটি রেখে দেন।’ সুকান্তের কথায়, বাঁটুল দি গ্রেট চরিত্রটি সৃষ্টি হয়েছিল চীন পাকিস্তান যুদ্ধের সময়। এটি এমন একটি চরিত্র ছিল যে কিনা অজেয়। কোনো বিপদের সামনে মাথা নোয়াবে না। তাকে কেউ মারতে পারবে না। ওনার আর একটি অদ্ভুত সৃষ্টি হল অদ্ভুত সব নাম। যেমন ইন্সপেক্টর গুঁফো গুঁই, হোস্টেল সুপার হাতিরাম পাতি বা উটপাখি উটো, এমনই সব মজার নাম। আরো এক প্রতিবেশী পেশাদার অলংকরণ শিল্পী মৃণালকান্তি দাস বলেন, শিবপুর পাবলিক লাইব্রেরীতে যাতায়াতের সুবাদে নারায়নবাবুর সঙ্গে পরিচয় হয়। এছাড়াও বিভিন্ন আঁকা প্রতিযোগিতায় বিচারক হয়ে এসেছেন তিনি। সমস্ত লেখা ও আঁকা নিজের হাতেই করতেন। তিনি আরো বলেন, নারায়নবাবু একজন অসম্ভব ভদ্র, মিশুকে মানুষ। বছর চারেক আগে ওনাকে বাইরে দেখা গিয়েছে। শরীর খারাপের জন্য সম্প্রতি তেমন বেরোতেন না। তাঁর কথায়, কমিকসের চরিত্রগুলো ছিল নারায়নবাবুর ‘ব্রেন চাইল্ড।’ এর পাশাপাশি তিনি অসাধারণ অলংকরণ শিল্পী। দেব সাহিত্য কুটিরের প্রকাশিত শুকতারা সহ অন্যান্য পত্রিকার টারজান সহ অন্যান্য চরিত্রগুলি আঁকায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। কার্টুনিস্ট শুধু নন নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন একজন অসাধারণ শিল্পী। তাঁর কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল সুকান্ত মুখার্জির মুখে। বাঁটুলের মতো চরিত্র তৈরি হবে না। ওই ছবি আর কারো হাত দিয়ে বেরোবে না।
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
