অগ্নিমূল্য চাল, বিপাকে আমজনতা
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। অর্থনৈতিক সংকট ও অতিমারিতে মাছ না হয় অনেকটা মহার্ঘ বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাকি থাকল আদি অকৃত্রিম আলুভাতে ভাত। কিন্তু এবার কি বাঙালির পাত থেকে উধাও হতে চলেছে ভাত। প্রশ্নটা ভাবাচ্ছে সাধারণ বাঙালির অনেকের মনেই। ভরা শীতেও সবজির মূল্য আকাশ ছোঁয়া। এবার আগুন লাগল বাঙালির প্রধান খাদ্য চালে। মধ্যবিত্ত তথা আপামর বাঙালির হেঁশেলে যে আগুন লাগল তা বলাই বাহুল্য।
বিক্রেতাদের দাবি গত একমাসে সব ধরনের চালেই কিলো প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা করে দাম বেড়ে গিয়েছে। মিনিকেট, বাঁশকাটি, দুধের সর, বাসমতি, গোবিন্দভোগ দাম বেড়েছে সব ধরনের চালেই। একমাস আগে যে মিনিকেট চাল ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কিলো প্রতি ছিল, এখন তা হয়েছে ৪৫ টাকা। বাঁশকাটি, দুধের সর ৪২ থেকে ৪৫ টাকা থেকে হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা। বাসমতি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকার বদলে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিকোচ্ছে। গোবিন্দভোগ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ছিল। এখন তা ৯০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে ঘোরাফেরা করছে। দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে আমজনতার। অসুবিধায় পড়েছেন বিক্রেতারাও।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার বাজার করতে আসা প্রবীণ অমরনাথ ব্যানার্জি বলেন, মিনিকেট চাল ছাড়া চলে না। এখন ভালো মিনিকেট চাল ৪৫ টাকার কমে পাচ্ছি না। আমি পেনশনভোগী। এভাবে চললে খাবো কী। বিক্রেতারা মেনে নিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ। যদুবাবুর বাজারের চাল বিক্রেতা সুজিত পাল বা বাঁশদ্রোণী বাজারের মহাদেব মন্ডল বলেন, মিনিকেটের চাহিদা ভীষণ বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া ভিন রাজ্য ও বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে মিনিকেট। ফলে দাম বাড়ছে। রাইস মিলের মালিকদের বক্তব্য প্রায় একই। তাঁরা বলছেন, মিনিকেট চালের চাহিদা আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। এই চাল রপ্তানি হচ্ছে। এই চাল এখন লোকের পছন্দের তালিকার একদম ওপরে। এর পাশাপাশি এবারে মিনিকেট ধানের ফলন কম হয়েছে। অকাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। ফলে এতটা দামের ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা আরও জানান, আগে মিনিকেট ধান ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা বস্তা প্রতি দর ছিল। এখন সেটাই ১৫০০ টাকা করে প্রতি বস্তা কিনতে হচ্ছে।
মিল মালিক বা বিক্রেতারা যাই বলুক; আগামী দু তিন মাসে চালের দাম আদৌ কমবে কিনা সে বিষয়ে কেউ কোনো ভরসার কথা শোনাতে পারছেন না। রোজকার বাজারদরের হিসেব করতে বসে বাঙালির হাতে দিনের শেষে থাকছে সেই পেন্সিল।
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
