মৃত মেয়ের সঙ্গে ১০ দিন রইলেন মা

ছবিতে- দীপ্তি মল্লিক

মৃত মেয়ের সঙ্গে ১০ দিন রইলেন মা

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

হাওড়া

মৃতের সঙ্গে একটানা ১০ দিন। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া এবার হাওড়াতে। প্রায় ১০ দিন আগে মৃত মেয়ের দেহ আঁকড়ে বসে রইলেন মা। রবিবার দুর্গন্ধ ছড়াতে বিষয়টি জানাজানি হতে টের পান প্রতিবেশীরা। এমনই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শিবপুর থানার অন্তর্গত মল্লিকপাড়ায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকা জুড়ে। মেরামতির অভাবে কার্যত প্রায় ভগ্নদশা বাড়িতে ৪৫ বছরের শ্যামলী মল্লিকের মৃতদেহের পাশে একসঙ্গে প্রায় ১০ দিন কাটালেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা দীপ্তি মল্লিক। রবিবার সকালে এক আত্মীয় খাবার দিতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর যায় শিবপুর থানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শিবপুর থানার পুলিশ। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবপুরের মল্লিকপাড়ায় দীপ্তিদেবী ও তাঁর মেয়ে শ্যামলী একাই থাকতেন। পাড়া প্রতিবেশী কারও সঙ্গে বিশেষ কথাবার্তা বলতেন না। মেলামেশা করতেন না। নিজেদের মতো করেই তাঁরা থাকতেন। তাঁরা দুজনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কোনো চিকিৎসা হতো না বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। রবিবার সকালে এক আত্মীয় খাবার দিতে এসে বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে ঢুকে দেখেন শ্যামলী মৃত। তিনিই পাড়ার বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পাড়ার বাসিন্দারা আরও জানান, দীপ্তিদেবীর বাড়ির লাগোয়া কয়েকজন আত্মীয় থাকলেও তাঁরা বিশেষ খবর নিতেন না। মৃত শ্যামলীর এক ভাই মাঝেমধ্যে এসে খাবার দিয়ে যেতেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন দীপ্তিদেবী ও তাঁর মেয়ে শ্যামলী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন আগে মৃত্যু হয় শ্যামলীর। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অসুস্থতার কারণেই দীপ্তিদেবীর মেয়ের মৃত্যু হয়। দীপ্তিদেবীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে শিবপুর থানার পুলিশ।

ছবিতে- শিবপুরে দীপ্তি মল্লিকের বাড়ি

 

কিছুটা অসংলগ্ন দীপ্তিদেবী বলেন, আমার স্বামী একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বছর তিনেক আগে তিনি মারা যান। তিনি আরো বলেন, আমাদের কেউ দেখত না। এখন এত ঠান্ডা তাই মেয়ে মারা গিয়েছে। দীপ্তিদেবীর ভাইপো শুভজিত পাল বলেন, আমি প্রায় প্রতি সপ্তাহে এখানে আসি। আমার স্ত্রী অসুস্থ তাই এবারে দু সপ্তাহ পরে এসেছি। এসে দেখি বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আমি ডাকাডাকি করতে পিসি দরজা খোলেন। ভিতরে ঢুকে দেখি দিদি মারা গিয়েছেন। দেহে পচন ধরেছে। আমি পাশের বাড়ির লোকেদের ডাকি। ওনারাই বলেন পুলিশ ও কাউন্সিলরকে জানাতে। তিনি আরো বলেন, পিসি বিশেষ রান্নাবান্না করতে পারতেন না। তাই শুকনো খাবার দেওয়া হতো। তাঁর দাবি, চিকিৎসার কথা বললেও পিসি কখনো উৎসাহ দেখাননি। এক প্রতিবেশী সোমা মুখার্জি বলেন, ওনারা মা মেয়ে একাই থাকতেন। কারো সঙ্গেই কথাবার্তা বলতেন না। দীপ্তিদেবীর ভাইপো সপ্তাহে সপ্তাহে এসে খাবার দিয়ে যেতেন। আজকে উনি এসে দেখেন যে শ্যামলী মারা গিয়েছেন। দেহ পচে পোকা ধরে গিয়েছে। সোমাদেবীর দাবি, মা মেয়ে দুজনেরই মাথা খারাপ। সারাক্ষণ দরজা জানলা বন্ধ করে রাখত। তাই আমরা কোন গন্ধ পাই নি।

ছবিতে- মৃত শ্যামলীর দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

 

 

Sub Editor- Ramananda Das

 

Editor- Dibyendu Das

 

Editor in chief- Rakesh Sharma

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *