শিল্পের পতন, ভেঙে ফেলা হলো দূর্গাপুর DPL চেম্বার
রামানন্দ দাস
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্বপ্নের শিল্প এই দূর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড (DPL) ১৯৫৮ সালে সুনিশ্চিত পরিকল্পনা মতো তিনি উদ্বোধন করেছিলেন, অর্থনৈতিক ভাবে রাজ্যকে আরো সাবলম্বী করে তুলতে এবং যুব সমাজের কর্মের ভিত স্থাপন করতে।
জঙ্গল ঘেরা দূর্গাপুর তখন শিল্পনগরীর প্রথম ইতিহাস গড়লো ডিপিএল-এর কোকওভেন ইউনিট, কেউ ভাবতেও পারত না এখানে কোনও শিল্প হতে পারে! রাজনীতির বিভাজন ভুলে দুর্গাপুরের শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সবাই এক হয়ে কাজ শুরু করেন,কিন্তু কোকওভেন ইউনিটে যে কোল গ্যাস তৈরি হবে তা কোথায় মজুত করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তরের সমাধান সূত্র বের করে তৈরি করা হয় কোল গ্যাস চেম্বার।
জাতীয় সড়ক ধরে গেলে বা শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের কোনও ল্যান্ডমার্ক বোঝাতে গেলে সবাই এই বিশাল আকৃতির কোল গ্যাস চেম্বারকেই বুঝতেন। এই চেম্বারের পয়েন্ট থেকে মাটির তলা দিয়ে একটি পাইপ লাইন চলে গিয়েছিলো হওড়ার বালি পর্যন্ত আর অন্য কয়েকটি পাইপলাইন শহর দুর্গাপুরের বিভিন্ন কারখানা, যেমন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বা ডিএসপি, মিশ্র ইস্পাত কারখানা, আরও ছোট-বড় বেশ কয়েকটি কারখানায় পৌঁছে যেত।
ইস্পাত গলানোর ক্ষেত্রে এই কোল গ্যাস সদর্থক ভূমিকা নিত আর খরচও কম পড়ত, তাই স্বাভাবিকভাবেই এই গ্যাসের চাহিদাও ছিল অনেক। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা প্রজেক্ট কোল গ্যাস উৎপাদন করেই প্রায় কোটি কোটি টাকা আয় করত ডিপিএল, কিন্তু সুখের এই দিনে অবসান ঘটল ২০১৫ সালে। লোকসানে চলা ডিপিএল-এর এই ইউনিট একে একে বন্ধ করে দেওয়া হল। কর্মরত ইউনিটের শ্রমিকদের ডিপিএলর পাওয়ার প্লান্ট থেকে অন্যান্য সরকারি দফতরে বদলি করার চলেছিল প্রস্তুতি।
আর সেই যবনিকার ছেদ পড়লো করোনা কালের ২০২০ সালে। নিলামে তোলা হয় একের পর এক যন্ত্রাংশ, রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অব্যবহৃত চেম্বার টিও বলা যায় এতদিন ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল ভগ্ন দশায়, ২০২২ এর শুরুতে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হল শিল্পের এই বিশাল প্রজন্ম।
নিমেষেই যেনো শহরবাসীর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তাদের চোখের সামনে, বিশেষ করে ডিপিএল-এর প্রাক্তন কর্মীদের জন্য এ যেন এক শোকের দিন। যে প্রকল্প নতুন প্রজন্মের কাছে যা হতে পারত আগামী দিনের এক নির্ভরশীল কর্মসংস্থান আইকন, আজ তাই যেন রাতারাতি হয়ে গেল এক ধ্বংসাবশেষ।
ঘটনার কেন্দ্র বিন্দু নিয়ে দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের রাজনীতির সাত সতেরোর মারপ্যাঁচের জটিল অঙ্কের হিসেব কষতে ব্যস্ত এখন রাজনীতির বঙ্গ কারিগররা।
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
