নাট্যজগতে নক্ষত্রপতন, চিরঘুমের দেশে শাঁওলি,
ফুরালো জীবনের “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো”।
গার্গী ব্যানার্জী, রঙমিলান্তি
শেক্সপিয়র বলেছিলেন, “এই বিশ্ব একটি বিশাল মঞ্চ, যেখানে সবাই আমরা অভিনেতা।” এই রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করতে করতেই আমরা হারিয়ে যাই চিরশান্তির দেশে। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাসেই নাট্যজগতের আরও এক নক্ষত্র পতন। জীবনের বেশিরভাগ সময় নাট্যমঞ্চে কাটিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে চির বিদায় নিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যাক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র। মৃত্যুকালে ওঁনার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওনার। রবিবার বিকেল ৩টে ৪০মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে যান শম্ভু-তৃপ্তি মিত্রের কন্যা। সিরিটি শশ্মানে সকলের অগোচরে পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যান উনি। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সত্ত্বেও হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নেবার বিপক্ষে ছিলেন উনি। নিজের তৈরি করা ইচ্ছাপত্রে জানিয়ে গেছিলেন ওনার শেষকৃত্যের পর যাতে মৃত্যুর খবর সবাইকে জানানো হয়। নিজের মরদেহের উপর যেন কেউ ফুল না দেয় সেই ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন শাঁওলি দেবী। বাবা শম্ভু মিত্রেরও ইচ্ছা ছিল এভাবেই চলে যাওয়া। ওনার শেষ ইচ্ছাকে সন্মান দিয়েই, শেষকৃত্যের পর ওনার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আনা হয়।
পঞ্চম বৈদিকে নাট্য মঞ্চে তার অভিনয় দক্ষতার মধ্যে দিয়ে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। প্রয়াত পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” ছবিতে ওনাকে দেখা গেছিলো “বঙ্গবালা” চরিত্রে অভিনয় করতে। এছাড়াও “ডাকঘর”, “পুতুলখেলা”, “বিতত বিতংস”, “লঙ্কাদহন”, “চন্ডালি”, “একটি রাজনৈতিক হত্যা”র মত কালজয়ী নাটকে। ২০০৯ এ উনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়াও ২০১১ সালে রবীন্দ্র সাধ্বশত জন্মবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ার পার্সন ছিলেন উনি। জানা যায় সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী কৃষকদের সমর্থন করেছিলেন এই দাপুটে অভিনেত্রী।
শাঁওলি মিত্রের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাট্যব্যক্তিত্ব দেবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “একটা যুগের অবসান হলো।”
বাংলার সরকার ওনাকে ২০১২ সালে “বঙ্গবিভূষণ” ও ২০১৪ সালে “দীনবন্ধু” পুরস্কারে সম্মানিত করেন। বাংলা সাহিত্য সহ নাট্যজগতের এই ক্ষতি হয়তো পূরণ হবেনা কোনোভাবেই। তাই তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলা নাট্যজগৎ। তবে আমাদের প্রিয় ”অমল” তথা শাঁওলি অমর হয়ে থাকবেন প্রত্যেক বাঙালির জীবনে।
Sub Editor- Ramananda Das