পরিযায়ী বৃত্ত
-রাকেশ শর্মা
একরাশ উপেক্ষা ছুঁড়ে দিল কে যেন আমাকে,
দুটো মুখ, নাক, চোখ মুখোমুখি;
স্লিপিং পিলের পাতার ধুলো মুছে-
এক ঢোকেই থমকালো চোখ, চারিদিকে শুনশান..
অতীতের দূরবীন থেকে চোখ সরিয়ে,
শুধু কি কুঁকড়ে আছি শীতে?
নাকি মনের ক্ষতর রিপুর বিদ্রোহ আড়ালে- আবডালে-
সুখ-দুঃখের স্মৃতির ক্যানভাসে শুধু ইছামতি ভর্তি অপ্রাপ্তি..
বহুজন্মের সেই চেনা চোখ,
সেই চেনা কাঁসার বাটিতে এক থালা ভাত, লাল খাসির ঝোল;
দৃষ্টি স্থির, কিন্তু পৃথিবী আজ টালমাটাল-
তবু তোমার চোখ দুটো অতৃপ্ত চুম্বকের মতো টানছে নির্বিকারে..
মধ্যরাতের শেষের ক্লান্তিভরা ঝাপসা আলোয় বিষন্ন সুর,
আজানের শব্দের বদলে কোথা থেকে ভেসে আসছে অস্তরাগের গান;
ঝুলে আছি ছোঁয়া আর ছুঁয়ে থাকার মধ্যে-
তবু আমি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছি তোমার স্মৃতি..
অতল গহ্বরে বিরাট স্থাপত্যের ভগ্নস্তূপে বাস ছিল,
ঝুরঝুর করে পরাগ রেণুর মতো ভাসছে অগণিত দৃশ্যপট;
পিপল গাছের ধার ঘেষে তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে যাওয়া বৃষ্টি ফোঁটা-
আড়ম্বরে আগলে আছে মনের বন্ধ্যা নদী..
খোপার জেল্লা বাড়ানো জুঁই ফুলের তৃপ্তিলোকে,
প্রত্যাশার শীর্ষবিন্দুতে দাঁড়িয়ে যে দুঃখের বীজ বপন হয়েছিল;
সে ইতিহাসের সাথে আমার বহুদিনের সহবাস-
তবু হারানো বাষ্পের উত্তাপ এ জনমের গুচ্ছ গুচ্ছ মুহূর্তে..
যন্ত্রনাকে কবচ করে পরেও ছাড়িনি তোমার অধিকার,
ভেতরের মূর্ছা যাওয়া চোরাস্রোত টেনেছে বহুদুরে;
এক ঝাঁক শকুন বসে দেখছে-
কিন্তু ঝলসে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি জমেছে বেখেয়ালে..
এক তীব্র বিষাক্ত অভিসন্ধি নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে ফেলে,
সহস্র বসন্ত অনাড়ম্বর লালন করে;
আগুনে পিঠ ঠেসে যে অনুভূতি কুড়িয়েছি-
তোমার আত্মার আত্মসমর্পনের ইতিহাস তা জানে বকলমে..
কিছু অনাকাঙ্খিত ছায়া শুষে নেয় কালের প্রলেপ,
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর আতঙ্ক কাটিয়ে;
নিশ্চুপ তোমার কথা ভাবি, তোমার কোলে মাথা রেখে-
তোমাকে আঁকড়ে ধরে উঠে দাঁড়াই..
সময় সবটা জানলেও, নিয়মিত চুপ থাকে,
দেহের সৎকার হলেও আত্মারা অস্তিত্ব মেখে ছুঁটে চলে;
দিক থেকে দিগন্তরেখার অমোঘ সুরে-
ইতিহাস মাঝে মাঝে উঁকি দেয় পরিযায়ী বৃত্তের ছায়া ঘুরে..