একসঙ্গে ২০০টি মৃতদেহ দাহ: তীব্র দূষণের শিকার হাওড়া
সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , রঙমিলান্তি
হাওড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবপুর শ্মশানে একসঙ্গে প্রায় ২০০টি বেওয়ারিশ লাশের দাহকার্যের ফলে ব্যাপক দূষণের শিকার হতে হলো হাওড়াবাসীকে।এমন অভূতপূর্ব ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শিবপুর এলাকায়। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক এলাকার মানুষ। রবিবার সারা রাত ধরে প্রায় ২০০টি বেওয়ারিশ মৃতদেহের গণ চিতা জ্বলল হাওড়ার শিবপুর শ্মশানে। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক দপ্তর, হাওড়া সিটি পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। দাহ চলে সোমবার সকাল পর্যন্ত। ফলে শিবপুর এলাকা সহ প্রায় গোটা শহর জুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়াল বায়ুদূষণ। অন্যদিকে আরো এক বিপত্তি দেখা দেয়। এতগুলি মৃতদেহ দাহ করার চাপে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অন্যান্য দেহগুলির সৎকারে যথেষ্ট অসুবিধার সম্মুখীন হন শব বহনকারীরা। লম্বা লাইন পড়ে যায় শবদেহের। ক্ষোভ বাড়তে থাকে মানুষের। রামরাজাতলা স্টেশন রোডের বাসিন্দা জয়দেব কুন্ডু বলেন, ‘আমরা বডি নিয়ে সেই কখন থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এত বডি পুড়ছে যে কখন আমাদের সুযোগ আসবে বুঝতে পারছি না।’
হাওড়া শহর এমনিতেই বায়ুদূষণের শিকার। এতগুলি লাশ পোড়ার তীব্র কটু গন্ধে চরম অসুবিধায় পড়েন সাধারণ মানুষ। গোটা এলাকা দুর্গন্ধময় ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অনেকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। জেলা প্রশাসনের তরফে একসঙ্গে এতগুলি মৃতদেহ কেন পোড়ানো হলো তা নিয়ে যথেষ্ট বিস্মিত এলাকাবাসী। প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিল কেন তা বড়ো প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে হাওড়াবাসীর সামনে। এলাকার তাঁতিপাড়া লেনের বাসিন্দা সৌরভ মুখার্জি বলেন, ‘রাত থেকেই মৃতদেহ পোড়ার তীব্র গন্ধ পাই। জানতে পারি যে একসাথে ২০০টি লাশ পোড়ানো হচ্ছে। আমরা হতবাক। রাতে খেতে পারিনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবার পঁচাত্তর বছর বয়স। শ্বাসকষ্ট আছে। সেটি বেড়ে গিয়েছে।’ ওলাবিবিতলা সেকেন্ড বাইলেনের বাসিন্দা সুকন্যা চ্যাটার্জি বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটো। সাত বছর বয়স। বিশ্রী ধোঁয়ার জন্য তার সর্দি কাশি শুরু হয়ে যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন এতগুলি দেহ একসঙ্গে না পুড়িয়ে আলাদা আলাদা করে পোড়াতে পারত। অথবা অন্য শ্মশানেও ব্যবস্থা করতে পারত।’
Sub Editor- Ramananda
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
