গাছ কাটার প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ হাওড়ায়

বোটানিক্যাল গার্ডেনে দুষ্প্রাপ্য গাছ কাটার প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ হাওড়ায়

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়: রঙমিলান্তি

হাওড়া শিবপুরের শতাব্দী প্রাচীন বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এনে পথে নেমে প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয় মানুষ। এঁদের একটি বড়ো অংশই সকালে গার্ডেনে মর্নিং ওয়াকে আসা প্রাতঃভ্রমণকারী। বাগান পরিষ্কার করার অজুহাতে জেসিবি মেশিন দিয়ে মেহগনি সহ বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার বিরুদ্ধে শুক্রবার সকাল থেকেই গার্ডেনের মূল ফটকে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন প্রাতঃভ্রমণকারীদের সংগঠন বোটানিক্যাল গার্ডেন রোড ডেলি ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। গাছ কাটা ছাড়াও গার্ডেনে অবৈধ পার্কিং সহ একগুচ্ছ ইস্যুতে স্থানীয় বি গার্ডেন থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানান তাঁরা। প্রাতঃভ্রমণকারীদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষের এই তুঘলকি ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান বিক্ষোভ চলবে টানা তিন দিন। পাশাপাশি চলছে বি গার্ডেন বাঁচানোর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। অবস্থানকারীদের দাবি, বি গার্ডেনের গাছগুলি সহ সামগ্রিক পরিবেশকে যেন উপযুক্ত ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করেন কতৃপক্ষ।

রাজ্যের উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতিতে নবান্নের তরফে জারি করা হয়েছে সরকারি বিধিনিষেধ। সেই মতো ৩ তারিখ থেকে মূল ফটকে নোটিস ঝুলিয়ে গার্ডেন বন্ধ করে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিদিন ভোরে বাগানে হাঁটতে আসা প্রাতঃভ্রমণকারীরা ঢুকতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, এই সুযোগে বাগান পরিষ্কার করার নাম করে বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করে দিচ্ছেন কতৃপক্ষ। এ বিষয়ে ২০০২ সালে কলকাতা হাইকোর্টে ন্যাশনাল গ্রীন ট্রাইবুনাল বেঞ্চের দেওয়া রায় কার্যত অগ্রাহ্য করছেন কর্তৃপক্ষ। তাঁরা অভিযোগ করেন যে আগেও এমন গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের আরো অভিযোগ, গাছ কাটা ছাড়াও ভিতরে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে কর্তৃপক্ষের মদতে। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
বোটানিক্যাল গার্ডেন রোড ডেইলি ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তাপস দাস সহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন ব্রিটিশ আমল থেকে গড়ে উঠেছে। এখানে বহু গবেষক আসেন তাঁদের গবেষণার কাজে। এখানে বহু গাছ লাগানো হয়েছিল। গাছগুলো আমাদের অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অমানবিকভাবে বাগান বাগান পরিষ্কার করার অজুহাতে দুষ্পাপ্য ও দুর্মূল্য বিরল প্রজাতির গাছগুলি জেসিবি মেশিন দিয়ে কেটে ফেলছেন। এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত কষ্টের। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। তাঁরা আরো বলেন, গাছগুলিকে বাঁচানোর তাগিদে এবং কর্তৃপক্ষের দানবীয় আচরণের প্রতিবাদে আমাদের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। আমরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলছি। আমরা চাই বাগানের গাছগুলিকে যেন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার কাজ আবার চালু হোক। কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে নজর দিন। অন্যদিকে মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বি গার্ডেনের যুগ্ম অধিকর্তা দেবেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, কিছু গাছ জেসিবি মেশিন দিয়ে কাটা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেগুলি আম্ফান ঝড়ের সময় ভেঙে পড়ে যায়। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সেগুলি কেটে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গাছগুলি কেটে না সরালে নতুন গাছ লাগানো হবে কী করে। তাঁর দাবি, কোনো জীবন্ত বা দুষ্প্রাপ্য গাছ কাটা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *